
Realme 14 Pro Plus হলো রিয়েলমি’র নাম্বার সিরিজের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন, যা সম্প্রতি বিশ্ব বাজারে আত্মপ্রকাশ করেছে। ফোনটি এখন বাংলাদেশের অন-অফিসিয়াল মার্কেটেও পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রথম রিয়েলমি এমন একটি ডিভাইস নিয়ে এসেছে, যেখানে রয়েছে যুগান্তকারী কোল্ড সেনসিটিভ কালার চেঞ্জিং প্রযুক্তি। ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রায় আসা মাত্রই এর ব্যাক প্যানেলের রং বদলে যায়, যা ব্যবহারকারীকে দেয় এক নতুনত্বের ছোঁয়া। এছাড়াও, এই সিরিজের ফোনটিতে রয়েছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় ও অসাধারণ আপগ্রেড। চলুন, Realme 14 Pro Plus 5G সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ডিজাইন এন্ড বিল্ড কোয়ালিটি
Realme 14 Pro Plus পাওয়া যাচ্ছে তিনটি দারুণ রঙে: Pearl White, Bikaner Purple এবং Suede Grey। ডিজাইনের দুটি বিশেষত্ব ফোনটিকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। প্রথমত, Pearl White রঙের ফোনটির ব্যাকপ্যানেল ঠান্ডা পানি বা বরফের সংস্পর্শে আসা মাত্রই মোহনীয় নীল রঙে পরিবর্তিত হয়ে যায়—যা Suede Grey এবং Bikaner Purple মডেলে অনুপস্থিত। তবে দ্বিতীয় আকর্ষণীয় বিষয়টি সবকটি রঙেই বিদ্যমান, এমনকি Realme 14 Pro মডেলেও এটি দেখা যায়। আর তা হলো ক্যামেরা মডিউলে থাকা তিনটি ফ্ল্যাশলাইট। এই বিশেষত্বটি নিয়ে আমরা একটু পরেই বিস্তারিত আলোচনা করব।
ফোনটির পুরুত্ব মাত্র ৮.৩ মিমি এবং ওজন ১৯৬ গ্রাম। প্রতিটি Realme 14 Pro Plus মডেলেই রয়েছে স্বতন্ত্র টেক্সচার, যা রিয়েলমির ডিজাইনার দল বিশেষভাবে তৈরি করেছে। এর ফলে ফোনটি হাতে ধরার সময় যেমন বাড়তি গ্রিপ পাওয়া যায়, তেমনই একটি প্রিমিয়াম অনুভূতিও জাগে। রিয়েলমি IP রেটিং এর ক্ষেত্রে কোনো আপোষ করেনি; IP66, IP68 এবং IP69 এর মতো সুরক্ষা এতে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ফোনটিতে রয়েছে মিলিটারি গ্রেড শক-রেসিস্ট্যান্স, যা দৈনন্দিন ব্যবহারে নিশ্চিত নিরাপত্তা প্রদান করে। রিয়েলমি দাবি করছে, এই ফোনটি ২ মিটার পানির নিচে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে সক্ষম।
বাটন এবং পোর্টের ক্ষেত্রে, এতে আইআর ব্লাস্টার ও ৩.৫মিমি হেডফোন জ্যাক পোর্ট নেই। তবে প্রয়োজনীয় অন্যান্য সবকিছুই বিদ্যমান। উপরের দিকে রয়েছে দুটি সেকেন্ডারি নয়েজ ক্যান্সেলেশন মাইক্রোফোন। হাই-রেস অডিও সার্টিফায়েড ডুয়াল স্টেরিও স্পিকারের সাউন্ড কোয়ালিটিও বেশ চমৎকার। এর দুর্দান্ত লাউডনেস এবং যথাযথ বেইজ ট্রেবল উপভোগ করা যায়। তবে ফুল ভলিউমে সামান্য ডিস্টরশন লক্ষ্য করা যেতে পারে। নিচের দিকে থাকা সিম কার্ড ট্রে-তে দুটি ন্যানো সিম কার্ড ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু কোনো এক্সটার্নাল এসডি কার্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না
তবে বক্স কন্টেন্টে প্রয়োজনীয় সবকিছুর থাকছে
- 1 Handset,
- 1 Charger,
- 1 USB data cable,
- 1 SIM Ejector Tool,
- 1 Quick Guide,
- 1 Protective Case
ক্যামেরা
সাধারণত কিছু ফোন শুধুমাত্র পারফরম্যান্সের ওপর জোর দিয়ে তৈরি করা হয়, তবে এই ফোনটির ক্ষেত্রে আপনি সবকিছুতেই একটি ভারসাম্য খুঁজে পাবেন। এতে যেমন রয়েছে ব্যালেন্সড পারফরম্যান্স, তেমনই ভালো মানের ডিসপ্লে এবং ক্যামেরা—সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি পরিপূর্ণ প্যাকেজ। ক্যামেরা স্পেসিফিকেশন অনেকটা Realme 13 Pro Plus-এর মতোই। এর রেয়ার প্যানেলে রয়েছে 50MP f/1.8 অ্যাপারচারের Sony IMX896 প্রাইমারি সেন্সর, 50MP f/2.7 অ্যাপারচারের পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স এবং একটি 8MP f/2.2 অ্যাপারচারের আল্ট্রাওয়াইড সেন্সর। সেলফি তোলার জন্য সামনে রয়েছে 32MP f/2.0 অ্যাপারচারের একটি সেলফি শুটার। ক্যামেরা স্পেসিফিকেশন নিঃসন্দেহে দারুণ। Camera2 API মুড লেভেল 3 পর্যন্ত আনলক করা থাকায় কিছু ম্যানুয়াল ক্যামেরা সেটিংস ব্যবহারের সুযোগ মিলবে, যদিও সব সেটিংসের সাপোর্ট নাও পাওয়া যেতে পারে।
দিনের আলোতে তোলা ছবিগুলোর মান ভালো থেকে মোটামুটি বলা যায়। তবে প্রাইমারি ক্যামেরার ইমেজ আউটপুট কিছুটা কন্টাস্টপূর্ণ, প্রাণবন্ত এবং বুস্টেড মনে হয়েছে। এক্ষেত্রে, রংগুলো যদি আরেকটু ন্যাচারাল হতো, তবে তা আরও ভালো লাগতো। ডায়নামিক রেঞ্জ এবং শ্যাডো এরিয়া হ্যান্ডেলিং বেশ ভালোভাবে সামলানো হয়েছে। যদিও, এক্সপোজার ব্যালেন্সে আরেকটু উন্নত আউটপুট আশা করেছিলাম, বিশেষ করে আকাশের রংগুলো একটু বেশি পপ আপ করে ফেলে—যা ছবিতে স্বাভাবিকতা দেয় না।
টেলিফটো লেন্স থাকার কারণে 73mm মুডেও চমৎকার ডিটেইলস পাওয়া যাচ্ছিল, এমনকি 144mm-এও ডিটেইলস দেখে আমি বেশ অবাক হয়েছি। মোটকথা, এই ক্যামেরার সবচেয়ে ভালো দিক হলো এর ডিটেইলস। বিস্তারিত জানার জন্য ডেসক্রিপশন বক্সে গুগল ড্রাইভের লিংক দেওয়া আছে; ছবিগুলো দেখলেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে আশা করি। তবে, জুম করে দেখলে কিছুটা স্মুথিং নজরে আসে। 120x পর্যন্ত জুম করে ছবি তোলার সুযোগ থাকলেও ডিটেইলসের মান খুব একটা ভালো পাওয়া যায় না—যা অন্যান্য ফোনেও একই রকম।
তবে পোট्रेट মোডে এই ফোনের পারফরম্যান্স বেশ সন্তোষজনক। পেরিস্কোপিক টেলিফটো জুম লেন্সটি এখানে যথেষ্ট ভালো কাজ করে। 1x, 2x, এমনকি 3x পোট্রেটেও যথেষ্ট ডিটেইলস পাওয়া যায়। এজ ডিটেকশনও বেশ ভালো, তবে জটিল পরিস্থিতিতে বা সূক্ষ্ম জিনিস নিখুঁতভাবে ডিটেক্ট করতে মাঝে মাঝে সামান্য বেগ পেতে হয়। ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার এবং ব্যাকগ্রাউন্ড বোকেহও যথেষ্ট ভালো পাওয়া যায়। বিশেষ করে 3x পোট্রেটের মান দেখে আপনি নিশ্চিতভাবেই খুশি হবেন, আশা করা যায়।
কম আলোতে নয়েজ এবং গ্রেইন তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। সফটেনিং এবং স্মুথিংও খুব বেশি চোখে পড়ার মতো নয়। লেন্স ফ্লেয়ারের সমস্যাও তেমন নেই, এবং ডিটেইলস যথেষ্ট ভালো পাওয়া যায়। রাতের ছবিগুলো দেখতে বেশ ভালো লাগে, কারণ এর কন্ট্রাস্টপূর্ণ কালার টোন। এছাড়াও, MagicGlow Triple Flash লাইট থাকায় কম আলোতে সাবজেক্টের কালারটোন নিজের পছন্দ মতো এডজাস্ট করার সুবিধা রয়েছে। ওয়ার্ম কালার ব্যবহারের সুযোগ থাকায় ছবি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এমনকি, প্রয়োজন অনুযায়ী লাইটের ব্রাইটনেসও পরিবর্তন করা যায়।
সেলফি ছবিতে সামান্য স্মুথিং দেখা গেলেও ডিটেইলসের মান যথেষ্ট ভালো। কালার টোন অনেকটা প্রধান ক্যামেরার মতোই। ডায়নামিক রেঞ্জ এবং এক্সপোজার ব্যালেন্সও মোটামুটি সন্তোষজনক ফলাফল দেয়।
তবে এর 8MP আল্ট্রাওয়াইড সেন্সরটি কেবল প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ওয়াইড অ্যাঙ্গেলে ছবি তোলার সময় মেইন ক্যামেরার তুলনায় কালার শিফটিংয়ের প্রবণতা দেখা যায়। ডিটেইলসও গড়পড়তা মানের, তবে এক্ষেত্রে এক্সপোজার তুলনামূলকভাবে ভালো লাগে।
ভিডিওগ্রাফির জন্য ফোনটির উভয় ক্যামেরাতেই 4K@30fps রেজোলিউশনে ভিডিও রেকর্ড করার সুবিধা রয়েছে। প্রাইমারি সেন্সর এবং টেলিফটো লেন্সে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS) বিদ্যমান, যা মোটামুটি ভালো স্ট্যাবিলিটি প্রদান করে। তবে আরও উন্নত স্ট্যাবিলিটি চাইলে আল্ট্রা স্টেডি মোড ব্যবহার করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে স্ট্যাবিলিটি বাড়লেও রেজোলিউশন কমে 1080p@60fps এ নেমে আসবে। এছাড়াও, ফোনটিতে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুযোগও রয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে রেজোলিউশনের সঙ্গে আপস করতে হবে। সার্বিকভাবে, ভিডিওগ্রাফি খারাপ নয়, তবে কালার টোন কিছুটা বুস্টেড এবং কন্ট্রাস্টপূর্ণ। ডিটেইলস মোটামুটি ভালো। সব মিলিয়ে দামের বিচারে এই ফোনের ক্যামেরা যথেষ্ট ভালো বলা যায়। বিশেষ করে, যাঁরা একটু প্রাণবন্ত রং পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে এটি ভালো লাগবে বলে আশা করা যায়।
ডিস্প্লে
এই ফোনের ডিসপ্লেটিও বেশ ভালো বলা যায়। এর ছোট পাঞ্চ-হোল এবং সিমেট্রিক্যাল বেজেলের কোয়াড কার্ভ ডিসপ্লেটি দেখতে সত্যিই অসাধারণ। স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও ৯৩.৮% হওয়ায় বেজেলগুলো খুবই কম মনে হয়। এতে 1272 x 2800 পিক্সেল বা 1.5K রেজোলিউশনের 120Hz রিফ্রেশ রেটের OLED প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে, যা ১ বিলিয়ন কালার সাপোর্টেড এবং একটি ১০ বিট কালার প্যানেল। এছাড়াও, এতে 3840Hz PWM ডিমিং এবং DCI-P3 কালার গামুট রয়েছে।
Widevine L1 সার্টিফিকেশন থাকার কারণে Netflix এবং অন্যান্য ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফুল HD+ রেজোলিউশনে কন্টেন্ট উপভোগ করা যাবে। পাশাপাশি, YouTube-এ HDR সাপোর্ট বিদ্যমান, যেখানে 4K@60fps HDR কন্টেন্ট বেশ স্মুথলি প্লে করা যায়। প্রাণবন্ত রং এবং চমৎকার সাউন্ড কোয়ালিটির সাথে কোয়াড কার্ভ ডিসপ্লে থাকায় কন্টেন্ট দেখার অভিজ্ঞতা এক কথায় অসাধারণ।
স্ক্রিনের নিচে থাকা অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের অবস্থান সামান্য নিচের দিকে মনে হলেও, এর রেসপন্স যথেষ্ট দ্রুত এবং নির্ভুল। এছাড়াও, ডিসপ্লেটি কর্নিং গরিলা গ্লাস 7i দ্বারা সুরক্ষিত, যা নিঃসন্দেহে ভালো একটি সুরক্ষা প্রদান করে। সবকিছু মিলিয়ে দামের নিরিখে এই ফোনের ডিসপ্লে যথেষ্ট উপযুক্ত।
প্রসেসর এন্ড পারফর্মেন্স-
প্রসেসর এন্ড পারফর্মেন্স-
পারফরম্যান্সের দিকটি কিছুটা মিশ্র অনুভূতি দেয়। খুব ভালো বলা না গেলেও, খারাপও বলা যায় না—বরং মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। এখানে চিপসেট হিসেবে Qualcomm Snapdragon® 7s Gen 3 ব্যবহার করা হয়েছে, যা 4nm ট্রানজিস্টরে তৈরি। এই চিপসেটটি সর্বোচ্চ 2.5 GHz ক্লক স্পিডে রান করে। । একটি ব্যালেন্সড ফোন হিসেবে এখানে যদি Snapdragon 7 Gen 3 চিপসেটও দেওয়া হতো, তাহলে পারফরম্যান্স আরও উন্নত হতে পারত। যাই হোক, গ্রাফিক্সের জন্য এতে Adreno 710 GPU এবং LPDDR5 টাইপের র্যাম ও UFS 3.1 টাইপের স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে। সিন্থেটিক বেঞ্চমার্কিং-এ AnTuTu-তে ফোনটির স্কোর 8,37,986 এবং Geekbench-এ সিঙ্গেল কোর স্কোর 1,167 ও মাল্টি কোর স্কোর 3,095 পাওয়া গেছে, যা হার্ডওয়্যার অনুযায়ী যথাযথ হলেও দামের বিচারে কিছুটা পিছিয়ে থাকবে।
এমনিতে রেগুলার বেসিস কাজকর্মে তেমন কোন অসুবিধায় পড়বেন না আপনারা । তবে মাল্টিটাস্কিং এ এপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে ধরে রাখতে পারলেও মাঝে মাঝে রিলোড নিচ্ছিলো । যেটা রিয়েলমির একটা জাত সমস্যা
গেমিং পারফরম্যান্স যাচাই করার জন্য জনপ্রিয় কিছু গেম খেলা হয়েছে। যেখানে
পাবজি-তে স্মুথ গ্রাফিক্স এবং এক্সট্রিম প্লাস ফ্রেমরেটে 90 fps-এ গেম খেলা যাচ্ছিল, যা মোটামুটি স্মুথ গেমপ্লে অনুভূতি দেয়। তবে ক্লোজ কম্ব্যাট বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে দু-একবার ল্যাগ এবং সামান্য FPS ওঠানামা করতে দেখা গেছে। GT মোড এবং গীক পাওয়ার টিউনিং অন করেও গেম খেলার সময় একই রকম FPS ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। এর্যাঙ্গেল ম্যাপে খেলার সময় ফোনটি গড়ে 85 FPS ধরে রাখতে সক্ষম ছিল এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল।
ফ্রী-ফায়ারেও 90 fps এ গেইম খেলা যাচ্ছিলো । এখানে গেইমপ্লেতে বেশ দারুন এক্সপেরিয়েন্স পাচ্ছিলাম আমরা । তেমন কোন ল্যাগ ট্যাগ নাই নাই কোন ফ্রেমড্রপও । এখানে এভারেজে 89 fps fps ই ধরে রাখতে পারছিলো ফোনটা । আর টেম্পারেচার ৪০ ডিগ্রির আশেপাশেই ছিলো ।
E-football গেইমটাতে সবকিছু হাই করে দিয়ে 60 fps এ গেইম খেলছিলাম আমরা । যেখানে এভারেজে 50 fps ধরে রেখে 40 ডিগ্রী পর্যন্ত হিট জেনারেট করেছে । এখানেও টুকটাক ল্যাগ ও ফ্রেম ড্রপ কিন্তু ছিলো । দামাএর বিচারে ফোনটার গেমিং এক্সপেরিয়েন্স কিন্তু অতটাও ইম্প্রেসিভ কিছু না । আরো ভালো গেইমপ্লে আশা করেছিলাম আমি ।
তবে হিটিংয়ের বিষয়টি আপাতত সন্তোষজনক বলা যায়। বাহ্যিকভাবে সামান্য গরম অনুভূত হলেও সিপিইউ থ্রটল টেস্টিংয়ে থার্মাল থ্রটল হয়েছে ৮২% পর্যন্ত এবং গ্রাফ মোটামুটি সবুজ ছিল। 3DMark Wildlife Extreme Test-এ সর্বোচ্চ ৩৪ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠেছিল এবং গড়ে ৯৯% স্ট্যাবিলিটি ধরে রাখতে সক্ষম ছিল। এই পরীক্ষায় সর্বোচ্চ লুপ স্কোর ছিল ১,০৭৪ এবং সর্বনিম্ন লুপ স্কোর ছিল ১,০৬২।
সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে, ফোনটিতে Android 15-এর সাথে Realme UI 6.0 ব্যবহার করা হয়েছে। এই UI-তে আইকনগুলোর ডিজাইন কিছুটা উন্নত করা হয়েছে এবং ফ্লোটিং উইন্ডোসহ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) নিয়ে কিছু কাজ করা হয়েছে। তবে রিয়েলমি কিছু সংখ্যক bloatware (অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ) অপসারণ করতে ভুলে গেছে। এছাড়াও, ফোনটিতে বিল্ট ইন জেমিনি ইনক্লড করা আছে। পাশাপাশি যেকোন লেখা টেখা সিলেক্ট করে ড্র্যাগ করে অন্য একটা এপসে খুব সহজেই ট্রান্সফার করার ব্যাবস্থাও আছে । Air gesture ও আছে । তবে আপডেটের বেলায় ফোনটা কিন্তু পিছায় পড়ে । কারন মাত্র ২ বছরের OS আপডেট ও ৩ বছরের সিকিউরিটি আপডেট পাওয়া যাবে ফোনটাতে । যেটা অনেকের কাছেই হয়ত দৃষ্টিকটু লাগতে পারে ।
নেটওয়ার্ক এন্ড কানেক্টিভিটি-
ফোনটি ব্যবহারের সময় আমরা নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত কোনো সমস্যা লক্ষ্য করিনি। কল কোয়ালিটি এবং নেটওয়ার্ক কাভারেজ যথেষ্ট ভালো ছিল। মোবাইল ডেটা ও ওয়াইফাই নেটওয়ার্কেও ইন্টারনেটের স্পিড স্বাভাবিক পেয়েছি। কল ড্রপ বা ডিসকানেক্টেড হয়ে যাওয়ার মতো কোনো সমস্যাও দেখা যায়নি। ফোনটিতে ৯টি 5G ব্যান্ড সাপোর্ট করে। এছাড়াও, Wi-Fi 6, Bluetooth 5.2 এবং GPS-এর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেন্সরও রয়েছে। তবে NFC এবং IR ব্লাস্টারের অনুপস্থিতি কিছুটা হতাশাজনক। Bluetooth ভার্সন 5.4 হলে ভালো হতো।
ব্যাটারী-
ব্যাটারির ক্ষেত্রে, এই ফোনটিতে 6000 mAh-এর সিলিকন কার্বন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। বक्स-এর মধ্যে 80 ওয়াটের SuperVOOC চার্জারও দেওয়া হয়েছে। রিয়েলমি ব্যাটারির স্বাস্থ্য ৪ বছর পর্যন্ত ভালো থাকার গ্যারান্টি দিচ্ছে। এই চার্জার দিয়ে ফোনটি সম্পূর্ণ চার্জ হতে প্রায় ৫০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। ব্যাটারি ব্যাকআপ পরীক্ষার জন্য PC Mark-এর একটি টেস্ট চালানো হয়েছিল, যেখানে স্বাভাবিক ব্যবহারে ফোনটি প্রায় ১১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের স্ক্রিন অন টাইম (SOT) দিয়েছে, ২০% চার্জ অবশিষ্ট থাকা অবস্থায়। তবে, ভারী ব্যবহারে SOT আরও কম হবে, তা বলাই বাহুল্য। সব মিলিয়ে 6000 mAh ব্যাটারি হিসেবে ব্যাকআপ আরও ভালো হওয়ার কথা ছিল, তবে যা পাওয়া যাচ্ছে, তা মোটামুটি সন্তোষজনক।
সবশেষে, ফোনটি নিয়ে একটি সারসংক্ষেপ টানলে বলা যায় যে Realme-এর এই ফোনটি একটি ব্যালেন্সড ডিভাইস হিসেবে খুব একটা খারাপ নয়। তবে দামের বিচারে এর পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয়। বর্তমানে দাম বেশ বেশি হওয়ায়, দাম কমার জন্য অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।