
কম বাজেটে ফোন তো অনেক রয়েছে, তবে বাজেটে ভালো ফোন খুজে পাওয়া টা অনেক কষ্টসাধ্য, আর এই কষ্টের কাজটি আপনাদের জন্য, আজ আমরা করতে যাচ্ছি। কারন আজ আমরা আপনাদের জন্য ১৪ থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ৫টি ফোন নিয়ে এসেছি, যা শুধু আপনাদের দেখাবোই না, প্রতিটি ফোনের ভালো ও খারাপ দিকগুলো স্পেসিফিকভাবে তুলে ধরবো, যাতে আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ফোনটি বেছে নিতে পারেন।
আমাদের তৈরি করা এই লিস্টের ফোনগুলো এই বাজেটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত এবং বর্তমানে বাজারে সহজলভ্য। কেউ চান ভালো ডিসপ্লে ও ব্যাটারি ব্যাকআপ, যা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা যায়, আবার কারো প্রয়োজন ভালো ক্যামেরা এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্স। আশা করি, আজ আপনারা অপনাদের পছন্দের ফোনটি খুঁজে পাবেন।
সেরা ফোন নাম্বার ৫
আমাদের তালিকার ৫ নম্বরে রয়েছে Itel S25, আকর্ষণীয় সব ফিচারসহ ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৩,৯৯০ টাকায়। এতে রয়েছে 6GB র্যাম এবং 128GB স্টোরেজ।

এই বাজেট সেগমেন্টে ফোনটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর ডিসপ্লে। ফোনটিতে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং FHD+ রেজোলিউশনসহ ১২০Hz রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, যা এই দামে অন্য কোনো ফোনে পাওয়া যায় না। এছাড়াও, ফোনটির ক্যামেরা আউটপুট বেশ সন্তোষজনক, যা একে বাজেট-ফ্রেন্ডলি ক্যামেরা ফোন হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রেও ফোনটি পিছিয়ে নেই। IR Blaster থাকার কারণে এটি টিভি বা এসির রিমোট কন্ট্রোল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি NFC সুবিধাও রয়েছে। দৈনন্দিন কাজকর্ম, স্মুথ মাল্টিটাস্কিং এবং 2D গেমিংয়ের জন্য এতে রয়েছে Unisoc T620 এর মতো শক্তিশালী চিপসেট। এছাড়াও, ফোনটির প্রিমিয়াম ডিজাইন এবং IP54 ডাস্ট ও ওয়াটার রেসিস্ট্যান্স একে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বাজেট বিবেচনা করলে Itel S25 ফোনটিতে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক দিক খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে 12nm প্রসেসর এবং অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহারের কারণে ব্যাটারি ব্যাকআপ তুলনামূলকভাবে কম পাবেন। এছাড়া, এতে হাই-গ্রাফিক্সের গেম খেলা সম্ভব নয়।
সেরা ফোন নাম্বার ৪
যারা কম বাজেটে একটি ভালো এমুলেড ডিসপ্লে, শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর এবং 5G connectivity চান, তাদের জন্য Redmi Note 12 5G একটি দারুণ বিকল্প। আমাদের তালিকার ৪ নম্বরে থাকা এই ফোনটি ডিজাইন এবং পারফরম্যান্সের চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছে।

ফোনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলো হলো এর সুন্দর ডিজাইন এবং হালকা ওজন, যা ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও আরামদায়ক করে তোলে। এতে থাকা 120Hz AMOLED ডিসপ্লে কন্টেন্ট দেখার অভিজ্ঞতাকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। Snapdragon 4 Gen 1 5G চিপসেট বাজেট অনুযায়ী যথেষ্ট শক্তিশালী, যা মাঝারি গেমিং থেকে শুরু করে মাল্টিটাস্কিংয়ের মতো দৈনন্দিন কাজগুলো সহজে করতে পারে। এছাড়াও, 3.5mm হেডফোন জ্যাক এবং IR ব্লাস্টার এর মতো ফিচারগুলো ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা নিয়ে আসে। ফোনটির 48MP প্রধান ক্যামেরা এবং 8MP আল্ট্রা-ওয়াইড সেন্সর দিয়ে মোটামুটি ভালো মানের ছবি তোলা যায়।
তবে, এই ফোনে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এর কাস্টম গ্লোবাল রম থাকার কারণে অফিশিয়াল আপডেট পাওয়া যায় না। বুটলোডার আনলক করা থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে সামান্য ঝুঁকি থাকে। এছাড়াও, দীর্ঘক্ষণ GPS ব্যবহার করলে বা গেম খেলার সময় ফোনটি সামান্য গরম হতে পারে। সাউমির MIUI এর সাথে বেশ কিছু প্রি-ইনস্টল অ্যাপ (ব্লোটওয়্যার) ইউজার এক্সপেরিয়েন্সে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
Redmi Note 12 5G (custom global) এর 8/256 GB ভেরিয়েন্টটি বর্তমানে ১৫,৫০০ টাকার বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
সেরা ফোন নাম্বার ৩
যারা গেমিংয়ের জন্য ভালো পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ চান, তাদের জন্য iQOO Z9x হতে পারে একটি চমৎকার চয়েজ। আমাদের তালিকার ৩ নম্বরে থাকা এই ফোনটির 4/128 জিবির ইন্ডিয়ান ভ্যরিয়ান্টের ফোনটি বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৬,৪০০ টাকায়। এছাড়াও 6 জিবি ৮ জিবি এবং চাইনিজ ভ্যরিয়েন্টেও এই ফোনটা পাওয়া যায়।

iQOO Z9x এর কিছু উল্লেখযোগ্য দিক হলো: এতে IPS ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে স্ক্রিনে গ্রিন লাইন আসার সম্ভাবনা নেই। এর উন্নত মানের 120Hz IPS প্যানেল স্মুথ স্ক্রলিং এবং গেমিংয়ের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। Snapdragon 6 Gen 1 প্রসেসর দৈনন্দিন ব্যবহারের পাশাপাশি গেমিংয়ের জন্যও যথেষ্ট শক্তিশালী। ফোনটিতে 6000mAh এর বড় ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে, যা একবার চার্জ করলে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা যায়। 44W ফাস্ট চার্জিং এর সুবিধা থাকায় খুব দ্রুত ফোনটি চার্জ করা সম্ভব।
তবে, এই ফোনের কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। ক্যামেরার মান বাজেট অনুযায়ী খুব একটা ভালো নয়। IPS প্যানেল ব্যবহার করার কারণে AMOLED এর মতো উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত কালার পাওয়া যায় না। এছাড়াও, ফোনটিতে কিছু ব্লোটওয়্যার রয়েছে। এছাড়াও ইন্ডিয়ান এবং চাইনিজ ভেরিয়েন্টের মধ্যে কিছু হার্ডওয়্যারের পার্থক্য দেখা যায়।
সেরা ফোন নাম্বার ২
যারা স্টক অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারের অভিজ্ঞতা, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং ভালো ব্যাটারি লাইফ পছন্দ করেন, তাদের জন্য Motorola Moto G45 আমাদের তালিকার ২য় স্থানে রয়েছে।

এই ফোনটির কিছু উল্লেখযোগ্য দিক হলো, Motorola সাধারণত প্রিমিয়াম এবং ইউনিক ডিজাইনের ফোন তৈরি করে। Snapdragon 6s Gen 3 প্রসেসর থাকার কারণে ফোনটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট স্মুথ এবং মাল্টিটাস্কিংয়ের অভিজ্ঞতা বেশ ভালো। Motorola প্রায় স্টক অ্যান্ড্রয়েডের অভিজ্ঞতা দিয়ে থাকে, যা ব্যবহার করা সহজ এবং এতে তেমন কোনো ব্লোটওয়্যার নেই। 5000 mAh ব্যাটারি থাকার কারণে ব্যাটারি ব্যাকআপও বেশ ভালো পাওয়া যায়।
তবে, এই ফোনটির কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো HD+ IPS ডিসপ্লে; এই বাজেটে একটি Full HD+ ডিসপ্লে থাকা উচিত ছিল। ক্যামেরার মান আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে এবং Motorola-র ক্যামেরা অ্যাপটি কিছুটা ল্যগি ল্যগি হয়। এছাড়াও, Motorola সাধারণত তাদের ফোনগুলোতে দেরিতে আপডেট দিয়ে থাকে।
Motorola Moto G45 এর 8/128 GB সংস্করণটি বর্তমানে প্রায় ১৭,৪০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সেরা ফোন নাম্বার ১

আমাদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে Poco X6 Neo। ফোনটির 8/128 GB ভেরিয়েন্টটি এখন মাত্র ১৭,৯৯৯ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
Poco X6 Neo-এর সেরা দিকগুলো আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই আসে এর FHD+ রেজোলিউশনের 120 Hz রিফ্রেশ রেটসহ AMOLED প্যানেলের কথা। এর সাথে কর্নিং গরিলা গ্লাস 5 এর সুরক্ষা যোগ করা হয়েছে। দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং অবসর সময়ে PUBG, FreeFire, eFootball-এর মতো গেম খেলার জন্য এতে রয়েছে মিডিয়াটেকের শক্তিশালী প্রসেসর Mediatek Dimensity 6080। LPDDR4X র্যাম এবং UFS 2.2 স্টোরেজ থাকার কারণে অ্যাপ ওপেন ক্লোজ করা এবং মাল্টিটাস্কিংয়ের সময় কোনো ল্যাগ বা স্টাটারিং ছাড়াই মসৃণ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। Poco X6 Neo-তে ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে, যা বাজেট অনুযায়ী যথেষ্ট ভালো ছবি তুলতে সক্ষম। নিয়মিত ফটোগ্রাফির জন্য এই ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই সাথে টুকটাক ভিডিওগ্রাফিও করা সম্ভব। এছাড়াও, 5000mAh ব্যাটারি থাকায় এর ব্যাটারি ব্যাকআপও বেশ ভালো। বক্সে ৩৩ ওয়াটের একটি ফাস্ট চার্জার দেওয়া হয়েছে। IR ব্লাস্টার (এসি/টিভি রিমোট), স্টেরিও স্পিকার এবং IP53 রেটিংয়ের (ধুলো ও সামান্য জলের ঝাপটা থেকে সুরক্ষা) মতো গুরুত্বপূর্ণ ফিচারগুলো তো থাকছেই।
এই ফোনটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো Xiaomi-র UI এবং এর আপডেট সংক্রান্ত সমস্যা। এছাড়া, বাজেট বিবেচনায় ফোনটিতে তেমন কোনো ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায় না। কেউ কেউ ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে অভিযোগ করলেও, এই বাজেটে এর ব্যাটারি ব্যাকআপ যথেষ্ট ভালো।